পদার্থের অবস্থা এবং ধর্ম (States and Properties of Matter)

🎯 এই অধ্যায় শেষে তুমি কি কি জানবে?

👉 ভৌত অবস্থার পার্থক্য অনুযায়ী পদার্থ কত প্রকার?

👉 কঠিন, তরল, ও গ্যাসীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য।

👉 কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের ধর্মে সাদৃশ্য

যার ভর আছে, যা কিছুটা স্থান দখল করে থাকে এবং যা ইন্দ্রিয়গ্রাহ্য তাকেই পদার্থ বলে।

ভৌত অবস্থার পার্থক্য অনুযায়ী পদার্থ তিন প্রকার

tree

কঠিন পদার্থ

তরল পদার্থ

গ্যাসীয় পদার্থ

📚 কণাগুলোর গতিশক্তির পার্থক্যের কারণে পদার্থের এই রূপভেদ সৃষ্টি হয়।

👉 কঠিন পদার্থ : সাধারণ অবস্থায় (সাধারণ উষ্ণতা ও চাপে) যে পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে তাকেই কঠিন পদার্থ বলে।

যেমন - সোনা, রূপা, তামা, পাথর, কাঠ, বালি, লবণ ইত্যাদি।

📚 কঠিন পদার্থের কণাগুলোতে :

অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি কম হয়।

আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বেশি হয়।

আন্তঃআণবিক শূন্যস্থান কম হয়।

কঠিন পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

⭐ নির্দিষ্ট চাপ ও উষ্ণতায় কঠিন পদার্থের আকার বা আয়তন সর্বদা নির্দিষ্ট থাকে।

⭐ সাধারণ অবস্থায় বাইরে থেকে শক্তি প্রয়োগ না করলে, কঠিন পদার্থের আকার বা আয়তনের বিশেষ কোন পরিবর্তন হয় না।

⭐ কঠিন পদার্থের উপর প্রচণ্ড চাপ দিলেও কঠিন পদার্থের আয়তন বিশেষ কমে না।

⭐ সাধারণ উষ্ণতায় কঠিন পদার্থ গ্যাসের মত ছড়িয়ে পড়ে না বা তরলের মত ওর বাষ্পায়ন হয় না।

ব্যতিক্রম - আয়োডিন, কপূর, ন্যাস্থ্যালিন প্রভৃতি কয়েকটি কঠিন পদার্থ সাধারণ উষ্ণতায় বাষ্পে পরিণত হয়।

⭐ সাধারণ চাপ ও তাপমাত্রায় কতকগুলি কঠিন পদার্থ নিয়তাকার হয়; যেমন - বরফ, তুঁতে, সাধারণ লবণ, ফটকিরি

আবার কতকগুলি কঠিন পদার্থ, সাধারণ অবস্থায় অনিয়তাকার; যেমন - কাচ, চক, পিচ ইত্যাদি।

👉 তরল পদার্থ : সাধারণ অবস্থায় (সাধারণ উষ্ণতা ও চাপে) যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই, তাকে তরল পদার্থ বলে।

যেমন - জল, দুধ, পারদ, অ্যালকোহল ইত্যাদি।

📚 তরল পদার্থের কণাগুলোতে :

অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি কঠিন অপেক্ষা বেশি হয় কিন্তু গ্যাস অপেক্ষা কম হয়।

আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কঠিন অপেক্ষা কম হয় কিন্তু গ্যাস অপেক্ষা বেশি হয়।

আন্তঃআণবিক শূন্যস্থান কঠিন অপেক্ষা বেশি হয় কিন্তু গ্যাস অপেক্ষা কম হয়।

তরল পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

⭐ নির্দিষ্ট চাপ ও উষ্ণতায় তরলের একটি নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই-যখন যে পাত্রে ঢালা হয় তখন সেই পাত্রের আকার ধারণ করে।

⭐ প্রচণ্ড চাপ প্রয়োগ করলে তরলের আয়তন সামান্য কমে।

⭐ তরলে তাপ প্রয়োগ করলে আয়তন বাড়ে।

⭐ সাধারণ সাধারণ উষ্ণতায় তরলের উপরতল থেকে সব সময় বাষ্পায়ন হয়।

⭐ কোন পাত্রের মধ্যে তরল রাখলে স্থির অবস্থায় তরলের উপরতল সর্বদা অনুভূমিক হয়।

⭐ তরলের সমোচ্চশীলতা ধর্ম আছে।

👉 গ্যাসীয় পদার্থ : সাধারণ অবস্থায় (সাধারণ উষ্ণতা ও চাপে) যে পদার্থের কোন নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন থাকে না, তাকে গ্যাসীয় পদার্থ বলে।

যেমন - বাতাস, অক্সিজেন, নাইট্রোজেন, হাইড্রোজেন ইত্যাদি।

📚 গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলোতে :

অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি সবার থেকে বেশি হয়।

আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল সবার থেকে কম হয়।

আন্তঃআণবিক শূন্যস্থান সবার থেকে বেশি হয়।

গ্যাসীয় পদার্থের বৈশিষ্ট্য :

⭐ গ্যাসীয় পদার্থের আকার বা আয়তন কোনটিই নির্দিষ্ট নয়। বর্ণহীন হলে চোখে দেখা যায় না।

⭐ গ্যাসীয় পদার্থের পরিমাণ যতই কম হোক না কেন, যখন যে পাত্রে রাখা হয় তখন সেই পাত্রের আকার এবং আয়তন লাভ করে।

⭐ গ্যাস সর্বদা আবদ্ধ পাত্রের মধ্যে রাখতে হয়, তা না হলে চারদিকে ছড়িয়ে পড়ে।

⭐ পরস্পরের মধ্যে রাসায়নিক বিক্রিয়া না হলে বিভিন্ন গ্যাস যে কোন আয়তনে পরস্পরের সঙ্গে মিশে যেতে পারে।

⭐ গ্যাসীয় পদার্থের ঘনত্ব, গ্যাসের চাপ এবং উষ্ণতার উপর নির্ভর করে।

⭐ একই চাপ ও উষ্ণতায় সম-আয়তন সব গ্যাসের মধ্যে সমান সংখ্যক অণু থাকে।

কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের ধর্মে সাদৃশ্য :

🔹 তাপ প্রয়োগ করলে কঠিন, তরল এবং গ্যাসীয় অবস্থায় পদার্থের আয়তন বাড়ে, তাপ কমালে আয়তন কমে।

🔹 একই পদার্থের ভর তিন অবস্থাতেও একই থাকে। ভরের কোন পরিবর্তন হয় না।

🔹 উষ্ণতা বাড়ালে কঠিন, তরল বা গ্যাসীয় পদার্থের ঘনত্ব কমে।

🔹 তিন অবস্থাতেই পদার্থ কিছুটা স্থান অধিকার করে।

✅ দ্রুত রিভিশন (Quick Revision)

🔹 যে পদার্থের নির্দিষ্ট আকার ও আয়তন থাকে তাকেই কঠিন পদার্থ বলে।

🔹 কঠিন পদার্থের কণাগুলোতে অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শূন্যস্থান কম হয়, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল বেশি হয়।

🔹 যে পদার্থের নির্দিষ্ট আয়তন আছে কিন্তু নির্দিষ্ট আকার নেই, তাকে তরল পদার্থ বলে।

🔹 যে পদার্থের কোন নির্দিষ্ট আকার বা আয়তন থাকে না, তাকে গ্যাসীয় পদার্থ বলে।

🔹 গ্যাসীয় পদার্থের কণাগুলোতে অভ্যন্তরীণ গতিশক্তি ও আন্তঃআণবিক শূন্যস্থান বেশি হয়, আন্তঃআণবিক আকর্ষণ বল কম হয়।