দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয় ও তার প্রকৃতি (Roots of a Quadratic Equation and their nature)
🎯 এই অধ্যায় শেষে তুমি কি কি জানবে?
👉 দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ (root) কাকে বলে,
👉 শ্রীধর আচার্যের সূত্র ব্যবহার করে বীজ নির্ণয়,
👉 বীজদ্বয়ের যোগফল ও গুণফল,
👉 বীজ থেকে দ্বিঘাত সমীকরণ গঠন,
👉 নিরূপক D = b2 − 4ac দিয়ে বীজের প্রকৃতি নির্ণয়।
দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ কী?
⭐ ax2 + bx + c = 0 হলো দ্বিঘাত সমীকরণের সাধারণ আকার, যেখানে a ≠ 0 এবং a, b, c ধ্রুবক।
কোনো দ্বিঘাত সমীকরণে x-এর যে মান বসালে সমীকরণটি সত্য হয়, সেই মানকে ওই সমীকরণের বীজ (root) বলা হয়।
📌 সাধারণভাবে একটি দ্বিঘাত সমীকরণের সর্বোচ্চ দুইটি বীজ থাকে। দুইটি বীজ একই হতে পারে, আবার আলাদা হতে পারে।
✍ উদাহরণ
∵ x2 − 5x + 6 = 0 সমীকরণে, x = 2 বসালে,
বা, 22 − 5 × 2 + 6 = 4 − 10 + 6 = 0
তাই 2 একটি বীজ। আবার x = 3 বসালেও,
∴ 32 − 5 × 3 + 6 = 9 − 15 + 6 = 0
তাই 3 আরেকটি বীজ। অর্থাৎ, সমীকরণটির বীজদ্বয় হলো 2 ও 3।
শ্রীধর আচার্যের সূত্রের সাহায্যে বীজ নির্ণয়
⭐ ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণে
ধরি, ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের সাধারণ আকার, যেখানে a ≠ 0।
∵ ax2 + bx + c = 0
বা,
বা,
বা,
বা,
উভয় পাশে বর্গমূল নিলে,
বা,
∴
📚 এখানে D = b2 − 4ac-কে নিরূপক (discriminant) বলা হয়।
📚 এই সূত্রকে শ্রীধর আচার্যের সূত্র (Sridhar Acharya's Formula) বলা হয়।
🔹 বীজগণিতে দ্বিঘাত সমীকরণ সমাধান করে সরাসরি x-এর মান বের করার জন্যে এই সূত্রটি ব্যবহৃত হয়।
✍ উদাহরণ: সূত্র প্রয়োগ করে বীজ নির্ণয়
🔹 2x2 − 7x + 3 = 0 সমীকরণের বীজ নির্ণয় করো।
এখানে, a = 2, b = −7, c = 3
∴ D = b2 − 4ac = (−7)2 − 4 × 2 × 3 = 49 − 24 = 25
শ্রীধর আচার্যের সূত্রে,
বা,
∴ x = 3 অথবা
তাই বীজদ্বয় হলো 3 ও ।
বীজদ্বয়ের যোগফল ও গুনফল
⭐ ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ দুইটির একটি α এবং অপরটি β হলে
ধরি, ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ দুইটির একটি α এবং অপরটি β
∴ ----- (i)
এবং ----- (ii)
হবে।
🔹 এখন, α ও β যোগ করলে (i) ও (ii) নং সমীকরণ থেকে পাই।
∴
বা,
বা,
বা,
🔹 আবার, α ও β গুণ করলে (i) ও (ii) নং সমীকরণ থেকে পাই।
বা,
বা,
বা,
বা,
বা,
বা,
✍ উদাহরণ: যোগফল ও গুণফল নির্ণয়
∵ 3x2 − 10x + 3 = 0 সমীকরণের বীজদ্বয় α ও β হলে,
এখানে, a = 3, b = −10, c = 3
এবং,
তাই বীজদ্বয়ের যোগফল এবং গুণফল 1।
বীজের মান জানা দ্বিঘাত সমীকরণ গঠন করার পদ্ধতি
দুইটি বীজের মান জানা থাকলে দ্বিঘাত সমীকরণটি x2 − (বীজদ্বয়ের যোগফল) x + (বীজদ্বয়ের গুনফল) = 0 হবে।
∵ ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের বীজ দুইটির একটি α এবং অপরটি β হলে
এবং হবে।
∴ ax2 + bx + c = 0
বা, (∵ a ≠ 0)
বা,
বা, x2 − (α + β)x + αβ = 0 (∵ এবং )
✍ উদাহরণ: পূর্ণসংখ্যা বীজ থেকে সমীকরণ গঠন
দুইটি বীজ 4 ও −1 হলে,
বীজদ্বয়ের যোগফল = 4 + (−1) = 3
বীজদ্বয়ের গুণফল = 4 × (−1) = −4
∴ সমীকরণ হবে,
x2 − 3x − 4 = 0
✍ উদাহরণ: ভগ্নাংশ বীজ থেকে সমীকরণ গঠন
দুইটি বীজ ও 3 হলে,
∴ সমীকরণ হবে,
ভগ্নাংশ দূর করতে সমীকরণকে 2 দিয়ে গুণ করলে,
2x2 − 7x + 3 = 0
দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয়ের প্রকৃতি [Nature of the Roots of a Quadratic Equation]
শ্রীধর আচার্যের সূত্রে
আমরা দুইটি বীজের যে মান পাই তার প্রকৃতি (b2 − 4ac)-এর উপর নির্ভর করে।
এইজন্য D = b2 − 4ac-কে নিরূপক (Discriminant) বলা হয়।
🔹 ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের a (≠ 0), b, ও c-এর মান বাস্তব (real) ও মূলদ (rational), এবং বীজ দুইটির একটি α এবং অপরটি β হলে।
α ও β প্রকৃতি হবে :
⭐ (a) (b2 − 4ac) > 0 হয় অর্থাৎ, নিরূপক ধনাত্মক হয়, তবে দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয় α এবং β বাস্তব (real) ও অসমান (unequal) হবে।
⭐ (b) (b2 − 4ac) = 0 হয় অর্থাৎ, নিরূপকের মান শূন্য হয়, তবে দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয় α এবং β বাস্তব (real) ও সমান (equal) হবে।
⭐ (b) (b2 − 4ac) < 0 হয় অর্থাৎ, যদি নিরূপকের মান ঋণাত্মক হয়, তবে দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয় α এবং β অবাস্তব (imaginary) ও অসমান (unequal) হবে।
⭐ (d) যদি নিরূপক ধনাত্মক ও পূর্ণবর্গ (perfect square) হয়, তবে দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয় α এবং β বাস্তব (real), মূলদ (rational) ও অসমান (unequal) হবে।
📚 মনে রাখো: সমীকরণের বীজদ্বয় বাস্তব হবে যদি D ≥ 0 হয়।
📚 মূলদ সহগবিশিষ্ট কোন দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয়ের একটি মূলদ ও অপরটি অমূলদ হতে পারে না; হয় উভয় বীজই মূলদ নতুবা উভয় বীজই অমূলদ হবে।
📚 বাস্তব সহগবিশিষ্ট কোন দ্বিঘাত সমীকরণের বীজদ্বয়ের একটি বাস্তব ও অপরটি কাল্পনিক হতে পারে না; হয় উভয় বীজই বাস্তব নতুবা, উভয় বীজই কাল্পনিক হবে।
| নিরূপকের মান | বীজদ্বয়ের প্রকৃতি |
|---|---|
| D > 0 | বীজদ্বয় বাস্তব ও অসমান। |
| D = 0 | বীজদ্বয় বাস্তব ও সমান। |
| D < 0 | বাস্তব বীজ নেই; উচ্চতর গণিতে বীজদ্বয় অবাস্তব জটিল। |
| D > 0 এবং পূর্ণবর্গ | বীজদ্বয় বাস্তব, মূলদ ও অসমান। |
| D > 0 কিন্তু পূর্ণবর্গ নয় | বীজদ্বয় বাস্তব, অমূলদ ও অসমান। |
✍ উদাহরণ: D > 0 এবং পূর্ণবর্গ
∵ x2 − 5x + 6 = 0
এখানে, a = 1, b = −5, c = 6
∴ D = b2 − 4ac = 25 − 24 = 1
যেহেতু D = 1 > 0 এবং 1 পূর্ণবর্গ, তাই বীজদ্বয় বাস্তব, মূলদ ও অসমান। বীজদ্বয় হলো 2 ও 3।
✍ উদাহরণ: D > 0 কিন্তু পূর্ণবর্গ নয়
∵ x2 − 2x − 1 = 0
এখানে, a = 1, b = −2, c = −1
∴ D = b2 − 4ac = 4 − 4 × 1 × (−1) = 8
যেহেতু D = 8 > 0, তাই বীজদ্বয় বাস্তব ও অসমান। কিন্তু 8 পূর্ণবর্গ নয়, তাই বীজদ্বয় অমূলদ।
✍ উদাহরণ: D = 0
∵ x2 − 6x + 9 = 0
এখানে, a = 1, b = −6, c = 9
∴ D = b2 − 4ac = 36 − 36 = 0
তাই বীজদ্বয় বাস্তব ও সমান। দুইটি বীজই 3।
✍ উদাহরণ: D < 0
∵ x2 + 4x + 5 = 0
এখানে, a = 1, b = 4, c = 5
∴ D = b2 − 4ac = 16 − 20 = −4
তাই বাস্তব বীজ নেই। উচ্চতর গণিতে বীজদ্বয় হবে −2 + i এবং −2 − i।
দ্বিঘাত সমীকরণের কিছু গুরুত্বপূর্ণ উপপাদ্য
💡 ax2 + bx + c = 0 দ্বিঘাত সমীকরণের একটি বীজ α হলে (x − α) রাশিটি ওই সমীকরণের একটি উৎপাদক হবে। বিপরীতভাবে, (x − α) যদি উৎপাদক হয়, তবে α সমীকরণটির একটি বীজ হবে।
💡 কোন দ্বিঘাত সমীকরণে দুটির অধিক বীজ থাকতে পারে না।
💡 মূলদ সহগবিশিষ্ট কোনো দ্বিঘাত সমীকরণের একটি বীজ হলে অপর বীজটি হবে ।
💡 বাস্তব সহগবিশিষ্ট কোনো দ্বিঘাত সমীকরণের একটি বীজ p + iq হলে অপর বীজটি হবে p − iq। এখানে ।
পরীক্ষার জন্য গুরুত্বপূর্ণ পয়েন্ট
-
দ্বিঘাত সমীকরণের সাধারণ আকার: ax2 + bx + c = 0, যেখানে a ≠ 0।
-
বীজ নির্ণয়ের সূত্র:
-
নিরূপক: D = b2 − 4ac
-
D > 0 হলে বীজদ্বয় বাস্তব ও অসমান।
-
D = 0 হলে বীজদ্বয় বাস্তব ও সমান।
-
D < 0 হলে বাস্তব বীজ নেই।
-
বীজদ্বয়ের যোগফল:
-
বীজদ্বয়ের গুণফল:
-
বীজ α ও β হলে সমীকরণ: x2 − (α + β)x + αβ = 0
💡 সাধারণ ভুল ধারণা Common Mistakes
| ভুল ধারণা | সঠিক ধারণা |
|---|---|
| a = 0 হলেও সমীকরণ দ্বিঘাত হবে। | a = 0 হলে x2 পদ থাকবে না, তাই সমীকরণ দ্বিঘাত নয়। |
| D > 0 মানেই সবসময় মূলদ বীজ। | D > 0 এবং D পূর্ণবর্গ হলে মূলদ বীজ হয়। |
| D < 0 হলে বীজ নেই। | বাস্তব বীজ নেই; উচ্চতর গণিতে অবাস্তব জটিল বীজ থাকে। |
| বীজদ্বয়ের যোগফল । | সঠিক যোগফল হলো । |
| বীজ থেকে সমীকরণে চিহ্ন ভুল করা। | সূত্রটি হলো x2 − (যোগফল)x + (গুণফল) = 0। |