আলোকবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণা: সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
এই পেজে আলোকবিজ্ঞানের প্রাথমিক ধারণা থেকে গুরুত্বপূর্ণ সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর দেওয়া হয়েছে। পরীক্ষার প্রস্তুতি ও দ্রুত রিভিশনের জন্য প্রশ্নগুলো অনুশীলন করো।
সংক্ষিপ্ত প্রশ্নোত্তর
আলোক হলো শক্তির একটি রূপ, যা কোনো আলোক উৎস থেকে নির্গত হয়ে আমাদের চোখে দর্শন অনুভূতি সৃষ্টি করে।
কোয়ান্টাম তত্ত্ব অনুযায়ী আলো কণা ও তরঙ্গ উভয় ধর্মই প্রদর্শন করে। আলোর কণাকে ফোটন বলা হয়।
শূন্য মাধ্যমে আলোর বেগ প্রায় 3 × 10⁸ m/s। বায়ু মাধ্যমেও এই বেগ প্রায় একই ধরা হয়।
সাধারণভাবে 4000Å থেকে 8000Å তরঙ্গদৈর্ঘ্যের বিকিরণ আমাদের চোখে দর্শন অনুভূতি সৃষ্টি করতে পারে।
আলো এক মাধ্যম থেকে অন্য মাধ্যমে গেলে তার বেগ ও তরঙ্গদৈর্ঘ্য পরিবর্তিত হয়, কিন্তু কম্পাঙ্ক অপরিবর্তিত থাকে।
আলোকবিজ্ঞানের প্রধান দুটি ভাগ হলো জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান এবং প্রাকৃতিক আলোকবিজ্ঞান।
যে অংশে আলোকে সরলরেখা বা রশ্মি হিসেবে কল্পনা করে প্রতিফলন, প্রতিসরণ, বিক্ষেপণ ইত্যাদি ধর্ম আলোচনা করা হয়, তাকে জ্যামিতিক আলোকবিজ্ঞান বলে।
যে অংশে আলোর তরঙ্গ প্রকৃতি এবং ব্যতিচার, অপবর্তন, সমাবর্তন ইত্যাদি ধর্ম আলোচনা করা হয়, তাকে প্রাকৃতিক আলোকবিজ্ঞান বলে।
যে বস্তু থেকে নিজস্ব আলো নির্গত হয় বা বিকীর্ণ হয়, তাকে আলোক উৎস বলে।
যে স্বচ্ছ মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আলো চলাচল করতে পারে, তাকে আলোকীয় মাধ্যম বলে।
যে স্বচ্ছ মাধ্যমে আলো সবদিকে সমান বেগে চলতে পারে, তাকে সমসত্ত্ব মাধ্যম বলে।
যে মাধ্যমে আলো সবদিকে সমান বেগে চলতে পারে না, তাকে অসমসত্ত্ব মাধ্যম বলে।
যে মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আলো চলাচল করতে পারে না, তাকে অস্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
যে মাধ্যমের মধ্যে দিয়ে আলো আংশিকভাবে যেতে পারে, তাকে অর্ধস্বচ্ছ বা ঈষৎস্বচ্ছ মাধ্যম বলে।
আলোর বিস্তারের দিকে টানা একটি সরলরেখাকে আলোকরশ্মি বলা হয়।
আলোর বিস্তারের দিকে টানা একগুচ্ছ সরলরেখাকে আলোক রশ্মিগুচ্ছ বলা হয়।
সাধারণত রশ্মিগুচ্ছ তিন প্রকার: সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ, অভিসারী রশ্মিগুচ্ছ এবং অপসারী রশ্মিগুচ্ছ।
দিনের আলোতে সূর্যের আলো বইয়ের উপর পড়ে এবং বই থেকে প্রতিফলিত হয়ে আমাদের চোখে আসে। তাই আমরা বই দেখতে পাই। বই নিজে আলো উৎপন্ন করে না, কিন্তু আলো প্রতিফলিত করে বলে সেটি দৃশ্যমান হয়।
চাঁদের নিজস্ব আলো নেই। চাঁদ সূর্যের আলো প্রতিফলিত করে আমাদের চোখে পাঠায়। তাই চাঁদকে নিষ্প্রভ বস্তু বলা হয়।
আলো বায়ু থেকে কাচে প্রবেশ করলে তার বেগ কমে যায়। কারণ কাচ বায়ুর তুলনায় ঘন মাধ্যম, তাই কাচের মধ্যে আলো অপেক্ষাকৃত ধীরে চলে।
আলোর বিস্তারের দিক বোঝাতে টানা একটি সরলরেখাকে আলোকরশ্মি বলে। আর একাধিক আলোকরশ্মি একসঙ্গে থাকলে তাকে আলোক রশ্মিগুচ্ছ বলে। অর্থাৎ, একটি আলোকরশ্মি একক পথ নির্দেশ করে, কিন্তু রশ্মিগুচ্ছ অনেকগুলি রশ্মির সমষ্টি।
সূর্য পৃথিবী থেকে অনেক দূরে অবস্থিত। তাই সূর্য থেকে আসা আলোকরশ্মিগুলি পৃথিবীতে পৌঁছানোর সময় প্রায় একই দিকে আসে এবং তাদের মধ্যে ব্যবধান খুব সামান্য পরিবর্তিত হয়। এই কারণে সূর্যের আলোকে পৃথিবীতে প্রায় সমান্তরাল রশ্মিগুচ্ছ হিসেবে ধরা হয়।